Lesson 5 of 134
In Progress

ব্যবস্থাপনার গুরুত্বঃ (Importance of Management)

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যই নির্ভর করে সেই প্রতিষ্ঠানের সফল ব্যবস্থাপনার উপর। দক্ষ ব্যবস্থাপনাই কারবারের কর্মপ্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখে। আর গতিশীল কর্মপ্রক্রিয়াই কারবারকে সাফল্যের পথে পরিচালিত করে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ব্যতীত কোনো কাজ করা আর না করা সমার্থক। নিম্নলিখিত আলোচনা থেকে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভবঃ

  • দলীয় লক্ষ্যপূরণ (Achievement of group goals) – কোনো প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ  করেন তারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত থাকেন। এই প্রত্যেকটি ছোট দল একটি সামগ্রিক কাজের অংশ হিসাবে কাজ করেন। এই প্রত্যেকটি দলের কাজ যদিও ভিন্ন তবুও এদের লক্ষ্য একই। তাই এদের মধ্যে যদি পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহযোগিতা ও সমন্বয় গড়ে তোলা না যায় তবে এই দলীয় লক্ষ্যপূরণ সম্ভব নয়। ব্যবস্থাপনা কর্মীদের মধ্যে এই দলীয় লক্ষ্যপূরণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
  • সম্পদের কাম্য ব্যবহার (Optimum utilisation of Resources) – যেকোনো প্রতিষ্ঠানেরই কার্য পরিচালনার জন্য দু-প্রকার সম্পদের প্রয়োজন। বস্তুগত ও মানবিক সম্পদ। এই দুটির সঠিক মেলবন্ধন করা না গেলে কারবারের লক্ষ্যপূরণ সম্ভব নয়। আবার মেলবন্ধন ব্যতীত উভয়েরই কাম্য ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। ব্যবস্থাপনা উভয় সম্পদের কাম্য ব্যবহার ও মেলবন্ধন সুনিশ্চিত করে।
  • উৎপাদন ব্যয় হ্রাস (Reduction of Cost) – বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত দ্রব্যের সঠিক মান বজায় রেখে উৎপাদন ব্যয় যথাসম্ভব হ্রাস করা বাঞ্ছনীয়। উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সম্পদের অপচয় বন্ধ করে ও উৎপাদন পদ্ধতির দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব। এই দুটি কাজ করতেই সহায়তা করে প্রতিষ্ঠানের সঠিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি।
  • স্থায়িত্ব ও উন্নয়ন (Survival and Growth) – সমাজ দ্রুত পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তনশীল সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে কারবারকেও সদা পরিবর্তনশীল হতে হয়। নতুন নতুন পণ্যের ও সেবার উদ্ভাবন এবং সেই পণ্য ও সেবা ন্যায্য দামে ভোক্তার হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমেই কারবারের স্থায়িত্ব ও উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা সম্ভব। এছাড়াও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপরেও কোনো প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব নির্ভর কপ্রে। ব্যবস্থাপনার কাজ এই সকল পারিপার্শ্বিক অবস্থার পূর্বানুমান করা ও সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
  • কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি (Scope of Employment Opportunities) – ভারতবর্ষের মতো উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে জনসংখ্যার পরিমাণ এত বেশি সেই সকল দেশে বেকার সমস্যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বিভিন্ন কারবারি প্রতিষ্ঠানের গঠনের ফলে সেই সকল প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। যার ফলে একদিকে যেরকম সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয় তেমনই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোও সম্ভব হয়। ব্যবস্থাপনা এই সকল প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
  • বৃহৎ কর্মপ্রক্রিয়া (Massive Work Process) – কোনো কারবারের নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলি হল – Money, Men, Materials, Method, Market, Motive এবং Management বা ব্যবস্থাপনা। এই সবকটির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ব্যবস্থাপনা। কারণ ব্যবস্থাপনাই বাকি অন্য সকল উপাদানগুলির মধ্যে সমন্বয়সাধন করে।
  • সর্বজনীনতা (Universality) – ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র কারবারি প্রতিষ্ঠানেই প্রয়োজন তা নয়। ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার সর্বজনীন। সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম।
  • জাতীয় উন্নয়ন (National Development) – উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে ও ন্যূনতম প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বাধিক উৎপাদন সম্ভব হয়। উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আর্থিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার সুনিশ্চিত করা যায়। উন্নত ব্যবস্থাপনা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করে। আর কোনো দেশে যখন উপরোক্ত এই সবকটি বিষয় সঠিক ভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়, তখনই তাকে দেশের জাতীয় উন্নয়ন হিসাবে গণ্য করা যায়।
error: Content is protected !!